ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা সমূহইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড এখন পাওয়া খুব সহজ। ফ্রিল্যান্সার ও
আউটসোর্সারদের জন্য একটি Dual Currency Card খুব দরকারী। প্রিয় পাঠক, ডুয়েল
কারেন্স কার্ড সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে, যদি আপনার অনলাইনের সাথে সম্পর্ক
থাকে।
তো নিম্নে কার্ড করতে কি লাগে, চার্জ কত, ডেবিট, ভিসা ও মাস্টার কার্ড কি ইত্যাদি
বিষয় গুলো সম্পর্কে অবহিত হবেন। তো চলুন ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড এর
বিভিন্ন ব্যাপারে এক্সপ্লোর করি।
পেজ সূচীপত্রঃ ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড সম্পর্কে জানুন
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড বিশুজুড়ে আর্থিক
লেনদেন সহজ এবং সুবিধা জনক করতে সেবা চালু করেছে। কার্ডটির মাধ্যমে
দেশীয় ও বৈদেশিক কারেন্সি বা মুদ্রা লেনদেন করতে পারবেন। এই কার্ডটি
ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলিং, ই-কমার্স সাইট থেকে শপিং এবং বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে
পেমেন্ট নেওয়ার জন্য খুব কার্যকরী। ইসলামী ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি কার্ড
শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং মূলনীতির সাথে মিল রেখে চলে, যেটি সর্বজন স্বীকৃত ও
গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে।
ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের ধারণা --
ডুয়েল কারেন্সি কার্ড হলে এমন এক কার্ড যার মাধ্যমে আপনি দুই ধরনের কারেন্সি
বা মুদ্রায় লেনদেন করতে পারবেন। একটি কার্ডে দেশি মুদ্রা যেমন
বাংলাদেশি টাকা এবং বিদেশী মুদ্রা যেমন ইউএসএ ডলার দুটোই যুক্ত
থাকে।
কাজেই, আপনি একজন কাস্টমার বা গ্রাহক হলে দেশের ভিতর এবং বিদেশে একই কার্ড
ব্যবহার করে ট্রানজেকশন বা লেনদেন করতে পারবেন। এই কার্ডটি বিশেষ করে আপনি
যদি নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন করেন বা বিদেশ ভ্রমণ করেন তাহলে আপনার
জন্য খুবই প্রযোজ্য হবে।
কার্ডের বৈশিষ্ট্য সমূহ --
ডুয়েল কারেন্সি লেনদেনের সুবিধাঃ আপনি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড ব্যবহার
করে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন একই কার্ড দিয়ে সম্পন্ন করতে পারবেন। উক্ত
কার্ডের মাধ্যমে বিডিটি বা বাংলাদেশী টাকায় লোকাল বলে ট্রানজেকশন এবং
ডলারে ফরেন ট্রানজেকশন করতে পারবেন।
নিরাপত্তা ও সুরক্ষাঃ ইসলামী ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি কার্ড
অত্যন্ত সেফটি বা নিরাপত্তা মেনটেইন করে। এতে রয়েছে চিপ এবং পিন
টেকনোলোজি, যেটি কাস্টমার বা গ্রাহকদের লেনদেন কে নিরাপদভাবে সম্পন্ন করে।
এছাড়াও, তাহলে ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এর একটি
সেফটি বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইবিবিএল।
অনলাইন লেনদেনের সুবিধাঃ এই কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক
ই-কমার্স সাইট থেকে কেনাকাটা করতে পারবেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক
সার্ভিস বা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বা বৈদেশিক মুদ্রায় যেকোনো পণ্য বা
সার্ভিস ক্রয় করতে পারবেন। আর এটি গ্রাহকদের জন্য বিশ্বে অত্যন্ত বড় একটি
সুবিধা।
আরো পড়ুনঃ ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড এর সুবিধা
ভ্রমণ সংক্রান্ত সুবিধাঃ আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য ডুয়েল
কারেন্সি কার্ড বিশেষভাবে উপযোগ্য। তারা বিদেশে ট্রাভেলিং বা ভ্রমণ টাইমে এটিএম
থেকে নগদ উত্তোলন, পজ মেশিনে কেনাকাটা এবং অনলাইন হোটেল বা বিমান টিকিট বুক
করতে পারবেন।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকসেপ্টেন্সঃ ডুয়েল কারেন্সি কার্ড বিশ্বের যে কোন
স্থানে মাস্টার কার্ড বা ভিসা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য। ফলে, কার্ড
হোল্ডারগণ তাদের প্রয়োজনীয় লেনদেন যে কোন স্থানে সহজ ভাবে করতে পারবেন।
কার্ডের প্রকারভেদ - ইসলামী ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি আইবিবিএল বিভিন্ন ধরনের
প্রোভাইড করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দুই ধরনের যা নিম্নে উল্লেখ করছি।
ডেবিট কার্ডঃ ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে আপনি আপনার নিজস্ব
সঞ্চয়ী বা জমানো ব্যালেন্স বা চলতি হিসাব থেকে সরাসরি অর্থ উত্তোলন করতে পাবেন।
এটি ব্যাংকের সাথে ডিরেক্টলি সংযুক্ত থাকে, ফলে আপনি একজন গ্রাহক হয়ে থাকলে আপনার
হিসেবের মধ্যে থেকেই আপনি লেনদেন করতে পারবেন।
ক্রেডিট কার্ডঃ ডুয়েল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আপনার গ্রাহক
সেবার নির্দিষ্ট লিমিট বা সীমার মধ্যে থেকে ক্রেডিট বা লোন বা ঋন হিসেব ব্যহহার
করতে পারবেন। এটি বাইরের দেশে আপনি থাকা অবস্থায় যে কোনো আর্জেন্ট বা ইমারজেন্সি
পরিস্থিতিতে আপনাকে সাহায্য করতে পারবে।
শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং ও ডুয়েল কারেন্সিং কার্ড --
ইসলামী ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি কার্ড শরীয়াহ অনুযায়ী চালিত। এই কার্ডের
লেনদেন ও অন্যান্য ব্যবহার প্রায় সম্পূর্ণ রূপে রিবা বা সুদ থেকে
মুক্ত। ইসলামী ব্যাংক কার্ড হোল্ডারদেরকে যেকোনো ধরনের রিভার বা সুদ থেকে
রক্ষা করতে বিভিন্ন ইসলামিক অর্থনীতির নীতি মেনে চলে কাজ করে।
এই যে ধরনের কার্ডের মূল লক্ষ্যই হলো এতে কোন ধরনের অতিরিক্ত সুদ বা চার্জ নেই।
কাজেই বলা চলে, এটি ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই
পরিচালিত হচ্ছে।
ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা --
সুবিধাঃ
-
এক কার্ড দ্বারা দুই ধরনের কারেন্সি বা মুদ্রার লেনদেন করতে পারবেন।
-
ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন করতে আপনার কোন এক্সট্রা কার্ডের প্রয়োজন
নেই।
-
বিদেশে ট্রাভেলিং বা ভ্রমণকালে কার্ডটি একটি সেইফ বা নিরাপদ অর্থ লেনদেন
মাধ্যমরুপে কাজ করতে পারবেন।
- ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন।
অসুবিধাঃ
-
যদি আপনার কার্ড হারিয়ে যায় বা চুরি হয়, তবে তৎক্ষণাৎ সুরক্ষা ব্যবস্থা
না নিলে রিস্ক হতে পারে।
- বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লেনদেন ফি থাকতে পারে।
-
কার্ডটি বৈদেশিক লেনদেনের সময় কারেন্সি বা মুদ্রা বিনিময় হারের
পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
নিম্নে আরো ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পেতে যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিবরণ
রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড করতে কি কি লাগে
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড করতে কি কি লাগে বা কার্ড পেতে আপনার
যোগ্যতা কতটুকু থাকতে হবে ব্যাপারটি এখানে ক্লিয়ার করছি। ইসলামী ব্যাংকের
ডুয়েল কারেন্সি আপনার পেতে হলে কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে কাজটি করতে
হবে। নিম্নে শর্তগুলো রইল।
-
প্রধানত, আবেদনকারীর একটি সেভিংস বা সঞ্চয়ী কিংবা কারেন্ট বা চলতি হিসাব
বা অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
- এছাড়া, বয়সে শর্ত পূর্ণ করতে হবে।
-
ব্যাংকের নীতিমালার আন্ডারে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড কিভাবে পাব
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড কিভাবে পাব বা ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের
জন্য আবেদন প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াটি এখানে রইল। ডুয়েল কারেন্সি কার্ড আপনাকে
পেতে হলে, ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় সরাসরি স্ব-শরীরে গিয়ে
আপনাকে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়াটি সাধারণত নিম্নরুপে করতে পারবেন।
- আবেদনপত্র ফরম পূরণ ও জমা দিতে হবে।
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন পাসপোর্ট, এনআইডি এবং টিন সার্টিফিকেট দিতে হবে।
-
একটি নির্দিষ্ট সময় পর ব্যাংক কর্তৃক যাচাইপূর্বক আপনাকে একটি কার্ড
প্রদান করা হবে।
-
এরপর সেখানে কার্ড অ্যাক্টিভিশন ও পিন সেট করে নিতে হবে ব্যাংক কর্মকর্তার
কাছে আর নিজে পারলে নিজে।
বিঃদ্রঃ আপনার কার্ড পেতে ব্যাংকের নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করার পর কিছু সময়
লাগতে পারে যা আপনাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তারাই বলে দিবেন
যে কত সময় লাগবে।
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড চার্জ
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড চার্জ নিয়ে এখানে লিখছি। প্রিয়
পাঠক, আপনি যদি একজন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক হয়ে থাকেন বা হতে
চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ডের চার্জ
কত? ইসলামী ব্যাংকের অফিসিয়াল সাইট অনুসারে এই কার্ডটির বার্ষিক
রক্ষণাবেক্ষণ ফি ৫০০টাকা।
তবে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে, কারেন্সি চেঞ্জ বা মুদ্রা বিনিময়
সি প্রায় ২.৫% হতে পারে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক এটিএম থেকে নবযুক্ত লোনের জন্য
প্রতি লেনদেনে দুই ডলার পর্যন্ত চার্জ আরোপ হয়ে থাকে। লোকাল ট্রানজেকশন বা
স্থানীয় লেনদেনে কোন অতিরিক্ত চার্জ নেই। আরো বিস্তারিত জানতে ইসলামী
ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্রাউজিং করুন।
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি ভিসা কার্ড
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি ভিসা কার্ড একটি বৈশ্বিক লেনদেন মাধ্যম যার দ্বার
আপনি দেশে ও বিদেশে সহজেই পেমেন্ট করতে পারবেন। এই কার্ডে রয়েছে দুইটি
মুদ্রা তথা বাংলাদেশি টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ এবং
এটি ভ্রমণ ও অনলাইন কেনাকাটায় বিশেষভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
কার্ডটি ইসলামী ব্যাংক এর হওয়ায় সুদমুক্ত ও হালাল লেনদেন নিশ্চিত করে।
কার্ডটি কাস্টমারদের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সহজ ও সুরক্ষা দান
করে।
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড নিয়ে লিখছি। এটি একটি বিশেষ
কার্ড যা ইউজারদের দেশীয় ও বিদেশী মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ দেয়। এটি আন্তর্জাতিক
কেনাকাটা(শপিং) ও ভ্রমনে(ট্রাভেলিং) নিরাপদ ও সহজে লেনদেন নিশ্চিত করে। ভিসা বা
মাস্টার কার্ড নেটওয়ার্ক(এন্ডরসমেন্ট বা মুদ্রা বিনিময়) এর মাধ্যমে সারা
বিশ্বজুড়ে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়াও, এটি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর
ব্যাংকিং নীতি মেনে পরিচালিত হয়, যা সেবা গ্রহণকারীদের জন্য হালাল ও নির্ভরযোগ্য
লেনদেনের নিশ্চয়তা দেয়।
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি প্রেপেইড কার্ড
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি প্রেপেইড কার্ড নিয়ে লিখছি। এটিও আন্তর্জাতিক
এবং স্থানীয় লেনদেনের জন্য সুবিধা জনক একটি কার্ড। এটি দিয়ে আপনি বিদেশ
ভ্রম সহ অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন। ডুয়েল কারেন্সি ফিচার এর
মাধ্যমে একসঙ্গে টাকাকে দুই মুদ্রায় কনভার্ট করতে পারবেন। কার্ডি পিন
সুরক্ষা সহ নিরাপদ এবং সহজে ব্যবহারের উপযোগিতা প্রদান করেন।
প্রিপেইড কার্ড বলতে, সাধারণত আগে থেকেই টাকা রিচার্জ বা জমা করা
থাকে। ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে পারেন কার্ডটির
মাধ্যমে। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এর মতো এটিও কাজ করে। তবে প্রিপেইড
কার্ড এর ক্ষেত্রে কোন ব্যাংকের সাথে সরাসরি সংযুক্ত না থাকলেও হয়।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নিয়ে লিখছি। এটি ও আল আরাফা
ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক ডুয়েল কারেন্সি একটি কার্ড যা তারা প্রদান করে থাকে। এটিও
বিদেশ ভ্রমণ, অনলাইন কেনাকাটা সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন লেনদেন, টিকিট বুকিং এবং
পেমেন্ট আনা ও দেওয়া যায়। আর আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ডুয়েল কারেন্সি কার্ড
প্রদান করে থাকে। এই ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি কার্ডেও নিরাপত্তা ও পিন ভেরিফিকেশন
সিস্টেম রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক গোল্ড ডেবিট কার্ড
ইসলামী ব্যাংক গোল্ড ডেবিট কার্ড হলো ইসলামী ব্যাংকে আপনি যদি একটি একাউন্ট
করেন এবং গোল্ড ডেবিট কার্ডের আবেদন জানান তাহলে তারা এই কার্ডটি দিয়ে থাকে।
এটিও ডুয়েল কারেন্সি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে, পাসপোর্ট এর মাধ্যমে ইন্ডোসমেন্ট করে টাকাকে ডলারে কনভার্ট করার
মাধ্যমে এই ডলারটি আপনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে, প্রতিষ্ঠানে কিংবা
অঙ্গনে খরচ করতে পারবেন। কার্ডটিতে শপিং, ট্রাভেলিং এবং একাধিক লেনদেন ও পিন
নিরাপত্তার সুবিধাটিও রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক ডেবিট কার্ড চার্জ
ইসলামী ব্যাংক ডেবিট কার্ড চার্জ নিয়ে লিখছি। কার্ডটির বিভিন্ন চার্জ রয়েছে
যেমন কার্ড ইস্যু ফি, বার্ষিক ফি, এটিএম ব্যবহার ফি, লেনদেন ফি এবং রিনিউয়াল ফি
ইত্যাদি। এ চার্জ বা ফি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ হয়ে থাকে। আইডিয়া স্বরুপ, কার্ড
ইস্যু চার্জ ২০০-৫০০, বার্ষিক ফি বা চার্জ ৩০০-৬০০, এটিএম
ব্যবহার চার্জ বা ফি নগদ ২০-৫০ টাকা, আন্তর্জাতিক লেনদেন চার্জ বা ফি
২-৩% এবং রিনিউয়াল চার্জ ২০০-৫০০ টাকা ইত্যাদি হয়ে থাকে। তবে চার্জের
ক্ষেত্রে, সরাসরি ব্যাংকের নিজ শাখায় গিয়ে আরো সুনির্ধারিত চার্জগুলো জানার
অনুরোধ করছি।
ইসলামী ব্যাংক মাস্টার কার্ড
ইসলামী ব্যাংক মাস্টার কার্ড নিয়ে লিখছি। আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন লেনদেন,
পেমেন্ট এর মাধ্যেম সেবা বা প্রোডাক্ট আনায়ন ও প্রদান ইত্যাদি সবিধা প্রদানের
কার্ডের নাম মূলত মাস্টার কার্ড। ইসলামী ব্যাংকের মাস্টার কার্ড সাধারণত ডুয়েল
কারেন্সি কার্ডগুলোই। আর এই ডুয়েল কারেন্সি কার্ডগুলো ভিসা ও মাস্টার উভয় হয়ে
থাকে।
আরো পড়ুনঃ
হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কি - hardware and software ki
আর এটি সাধারণত মাস্টার কার্ড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেবা কার্যকর হয়ে থাকে। ইসলামী
ব্যাংক মূলত বিভিন্ন মাস্টার কার্ড প্রোভাইড করে। যেমন গোল্ড ও প্লাটিনাম। যার
জন্য নিকটস্থ ব্যাংকে গিয়ে আবেদন করতে হবে। ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক ও
ট্রাভেলিং বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করতে থাকে।
ইসলামী ব্যাংক ভিসা কার্ড সুবিধা
ইসলামী ব্যাংক ভিসা কার্ড সুবিধাগুলো লিখছি। এই সুবিধা গুলো কাস্টমারদের
দৈনন্দিন জীবনের লেনদেন কেনাকাটাকে সহজ ও নিরাপদ করে। নিম্নে ইসলামী
ব্যাংকের ভিসা কার্ড এর মূল সুবিধাগুলো উল্লেখ করছি।
- আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা
- সহজ লেনদেন
- নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এর অস্তিত্ব
- ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট
- অনতিবিলম্বে লেনদেনের তথ্য
- অনলাইন শপিং সুবিধা
- বিশেষ প্রোগ্রামের অফার
ইসলামী ব্যাংক স্টুডেন্ট ভিসা কার্ড
ইসলামী ব্যাংক স্টুডেন্ট ভিসা কার্ডটি বিশ্বের বিভিন্ন
স্থানে ছাত্ররা ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে ফরেইনে
ট্রাভেল, অনলাইন শপিং সহ বিভিন্ন লেনদেন ইত্যাদিতে। ইসলামী ব্যাংকের
অন্যান্য কার্ড গুলোর মত এই কার্ডটিতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সহজ অর্থ
ব্যবস্থাপনা, ডিসকাউন্ট ও অফার, এটিএম সুবিধা, এবং অন্যান্য
অনলাইন লেনদেনের সুবিধা প্রদান করে থাকে। কার্ডটির দ্বারা ছাত্র-ছাত্রীরা
দৈনিন্দন খরচ করতে ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো ট্রাঞ্জেকশনে দক্ষ হয়ে
উঠবে।
ইসলামী ব্যাংক এটিএম কার্ড
ইসলামী ব্যাংক এটিএম কার্ড হলো একটি ডেবিট কার্ড যা গ্রাহকদের নগদ টাকা
উত্তোলনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে সহায়তা
করে। এই কার্ডটি মূলত গ্রাহকদের দ্বারা ব্যবহৃত হয় এবং স্বল্প সময়ে
বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারে। নিচে কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করছি।
- নগদ টাকা তোলার সুবিধা
- অনলাইন লেনদেনের সুবিধা
- নিরাপত্তা অর্থাৎ ওটিপি সুবিধা
- বিভিন্ন পেমেন্টে সুবিধার সহজবোধ্যতা
- এটিএম নেটওয়ার্কের সুবিধা নিতে পারা
- সুবিধাজনক ব্যালেন্স যাচাই করতে পারা
- বার্ষিক ফি কম হওয়া
লেখকের শেষ মন্তব্য
ইসলামী ব্যাংক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নিয়ে উক্ত ব্লগটিতে সুস্পষ্টভাবে
লেখার চেষ্টা করেছি। প্রিয় পাঠক, আপনার এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি
বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বলে আশা করছি। আরো এ রকম উপকারী আর্টিকেল পেতে আমাদের
ওয়েবসাইট আব্দুন নূর আইটির সাথেই থাকুন
ইনশাআল্লাহ।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তরঃ FAQ
ডুয়েল কারেন্সি করতে কি কি লাগে?
একটা সেভিংস বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং বয়স এর তথ্য সহ যাবতীয় কাগজপত্র।
ইসলামী ব্যাংকের কার্ডে কত টাকা তোলা যায়?
এটিএমে ২০ হাজার করে ৫ বার ১ লক্ষ টাকা তোলা যায়। আর কার্ড নিয়ে সরাসরি ব্যাংকে
গেলে একিবারে একদিনে ৫ লক্ষ টাকা তোলতে পারবেন।
ইসলামী ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে?
এন আইডি কার্ড, ২ কপি পাসপোর্ট ছবি, নমিনির এন আইডি ও এক কপি ছবি।
কারেন্ট একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে?
ট্রেড লাইসেন্স, ইটিন সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য কাগজ পত্র।
ইসলামী ব্যাংক কত পার্সেন্ট লাভ দেয়?
৫-৭%
সেভিংস একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে?
এন আইডি/ ড্রাইভিং লাইসেন্স/ পাসপোর্ট ও ২ কপি ছবি এবং অন্যান্য পেপারস।
ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে?
ন্যাশনাল ভোটার আইডি, ছবি, ইটিন সহ বিদ্যুত বিলের কাগজপত্র ও লাগতে পারে।
ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে?
কোনো ব্যাঙ্কে প্রথমে ৫০০ আবার কোথাও ১০০০ টাকা লাগতে পারে। ইসলামী ব্যাঙ্কে ১০০০
টাকা লাগে।
ব্যাংক খুলতে কত টাকা লাগে?
৫০০ বা ১০০০ টাকা
আব্দুন নূর আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url